ইরানের হরমুজ প্রণালী খুলে দেবার প্রতিশ্রুতির হঠাত কি হলো

ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে, কিন্তু তারা জেনেশুনে তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষ এবং দেশের জন্য উদ্বেগ, বিশৃঙ্খলা ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা বলছে যে তারা পানিতে মাইন পেতে রেখেছে, যদিও তাদের নৌবাহিনীর সবকিছু এবং মাইন ফেলার বেশিরভাগ সরঞ্জামই পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তারা হয়তো মাইন পেতেছে, কিন্তু কোন জাহাজের মালিক এই ঝুঁকি নিতে চাইবে? এর ফলে ইরানের সম্মান এবং তাদের তথাকথিত নেতাদের খ্যাতির স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে, তবে আমরা এখন সেসবের ঊর্ধ্বে।
তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক জলপথ দ্রুত খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা তাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। তারা আইনের প্রতিটি ধারা লঙ্ঘন করছে।
পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সদয় ও অত্যন্ত দক্ষ নেতৃত্বে ইসলামাবাদে যে বৈঠকটি হয়েছে, সে সম্পর্কে আমি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্রিফিং নিয়েছি।
তারা (মুনির ও শরিফ) অসাধারণ মানুষ এবং ভারতের সাথে এক ভয়াবহ যুদ্ধে ৩ থেকে ৫ কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য তারা আমাকে ক্রমাগত ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। আমি সবসময় এটি শুনতে পছন্দ করি—যে পরিমাণ মানবতার কথা এখানে বলা হয়েছে তা অকল্পনীয়।
ইরানের সাথে বৈঠকটি খুব ভোরে শুরু হয়েছিল এবং সারারাত চলে প্রায় ২০ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। আমি অনেক খুঁটিনাটি বিষয় এবং যা যা অর্জিত হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারতাম, কিন্তু কেবল একটি বিষয়ই এখানে গুরুত্বপূর্ণ—ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে রাজি নয়!
অনেক দিক থেকে যেসব পয়েন্টে দুই পক্ষ একমত হয়েছে, সেগুলো আমাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার চেয়েও উত্তম ছিল; কিন্তু এই অস্থির, কঠিন ও অনিশ্চিত মানুষের হাতে পারমাণবিক শক্তি থাকতে দেওয়ার তুলনায় সেই পয়েন্টগুলোর কোনো গুরুত্বই নেই।
বৈঠক চলাকালীন আমার তিন প্রতিনিধি স্বাভাবিকভাবেই ইরানের প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাকের কলিবফ, আব্বাস আরাগচি এবং আলী বাঘেরির সাথে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না, কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা ছিল অনড়। আমি যেমনটি শুরু থেকে এবং অনেক বছর আগে থেকেই বলে আসছি—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না!
সূত্র: ট্রুথ সোশ্যাল (ডোনাল্ড ট্রাম্প)




