HISTORY

ইরানের ইসলামি বিপ্লব প্রথম পর্ব।

ইরানের ইসলামি বিপ্লব প্রথম পর্ব
ইরানের ইসলামি বিপ্লব প্রথম পর্ব

ইরানের ইসলামি বিপ্লব প্রথম পর্ব।

১ম পর্ব

অন্যায়-অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে ইরানিদের সংগ্রামের ইতিহাস সুপ্রাচীন।

১৯৬০-র দশকে ইসলামী বিপ্ল বের পথে চূড়া ন্ত যাত্রা শুরু হলেও স্বৈ রাচা রের বিরু দ্ধে ইরানি দের আন্দোলন শুরু হয়েছিল আরও আগে।

১৯০৫ সালের সাংবি ধানিক বিপ্লব এবং তেল সম্পদকে জাতী য়করণের জন্য ১৯৫০-র দশকের গণ সংগ্রাম,

বিংশ শতা ব্দির আরও দুটি উল্লেখ যোগ্য ঘটনা।

সে যাইহোক, আমরা ফিরে আসছি ইসলামী বিপ্ল বের পথে চূ ড়ান্ত যাত্রার ইতি হাসে।

১৯৬১ সাল।

স্বৈরা চারি শাহ সরকার ইসলাম বিরোধী স্থা নীয় পরিষদ আইন অনুমোদন করার সাথে সাথে ধর্মীয় নেতৃ বৃন্দ ও জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

ইমাম খোমেনী (রহ.) এই আইন বাতিলের আহ্বান জানা লেন।

কিন্তু শাহ প্রথমে তাতে কান দিলেন না। আন্দোলন আরও জোরদার হলো।

এক বছরেরও কম সময়ের আন্দো লনে শাহ বিত র্কিত আইনটি বাতিল করতে বাধ্য হলেন।

বলা যায়, সাফল্য দিয়েই বিপ্ল বের পথে যাত্রা শুরু হলো।

১৯৬৩ সালের শুরুতে শাহ, শ্বেত বিপ্লব শীর্ষক একটি গণপ্রতা রণামূলক পরি কল্পনা গ্রহণ করে।

বাস্তবে এই পরিক ল্পনাটি ইরানি জনগণ ও অর্থনী তির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ছিল।

এ কারণে ইমাম খোমেনি (রহ.) ধর্মীয় নগরী কোম থেকে এই পরিকল্প নার বিরো ধিতা করেন।

এরপরও এই পরি কল্পনা র ব্যা পারে গণভোটের আয়োজন করা হয়। ইমাম খোমেনী এই পরিক ল্পনার বি রুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় অধিকাংশ মানুষ গণভোট বয়কট করে।

ইরানিরা শ্বেত বিপ্লব পরিকল্প নার প্রতি বাদে ঐ বছর ফার্সি নব বর্ষের উৎসব পালন না করে শোকানু ষ্ঠান পালন করেছিল। উ  ল্লেখ্য,

ইরানে প্রতি বছর অত্যন্ত জাকজ মকপূ র্ণভাবে ফার্সি নববর্ষ উদযাপিত হয়।

নববর্ষ উৎসবকে ইরানের সবচেয়ে বড় আনন্দ উৎসবও বলা যেতে পারে।

কিন্তু সেদিন ইরানিরা ইমাম খোমেনীর প্রতি একা ত্মতা প্রকাশ করে তাদের এই গুরু ত্বপূ র্ণ উৎসব পালন থেকে বিরত ছিলেন।

ইরানের ইসলামি বিপ্লব।

ইরানি জনগণের অবি শ্বাস্য এ পদক্ষে পের কারণে শাহ তার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।

সাথে সাথে ধর্মীয় নগরী কোমে হামলা চালানোর নির্দেশ জারি হয়।

শাহের পেটোয়া বাহিনী কোমে হানা দেয়। শহীদ হন ছাত্র – শিক্ষ কসহ বেশ কয়েক জন।

শাহের বাহিনীর এই নির্মম হামলার নিন্দা জানিয়ে পরের দিনই ইমাম খোমেনী (রহ.) বিবৃতি প্রকাশ করেন।

এর কিছু দিন পরই বিশ্বন বীর প্রাণ প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেন (আ.)-র শাহা দাতের স্মৃতি বি জড়িত মহররম মাস শুরু হয়।

ইরানের জনগণ শোকাবহ এই মাসে বিভিন্ন শোকা নুষ্ঠা নের আয়োজন করে এবং এসব অনুষ্ঠা নে বিজ্ঞ আলেম ও বিশি ষ্টজ নেরা বক্তব্য রাখেন।

এ অবস্থায় শাহের নির্যাতন ও অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার জন্য ইমাম খোমেনী (রহ.) মহররম মাসকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

এই আহ্বা নের পরপরই শোকানু ষ্ঠানে বক্তারা শাহের নানা অপক র্মের বিবরণ তুলে ধরতে শুরু করেন।

দশই মহররমকে আশুরা বলা হয়। ইমাম হোসেন (আ.)’র শাহাদাৎ দিবস বা আশুরার দিনে গোটা ইরান শোকা চ্ছন্ন থাকে।

এদিনের শোকা নুষ্ঠা নে কোটি কোটি মানুষ অংশ নেয়।

ইরানের ইসলামি বিপ্লব প্রথম পর্ব।

১৯৬৩ সালের এমনি এক দিনে ইমাম খোমেনী শাহের ধর্ম ও দেশ বিরোধী তৎপরতা সম্প র্কে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন,

যা আশুরার বিভিন্ন অনু ষ্ঠা  নে পড়ে শোনানো হয়।

এই বিবৃতি প্র কা শের অপরাধে শাহের বাহিনী ১৯৬৩ সালের ৫ই জুন ইমাম খোমেনী (রহ.)-কে গ্রেফ তার করে তেহরা নের কা রাগারে প্রেরণ করে।

ইমাম খোমেনী (রহ.)-কে গ্রেফ তারের খবর বাতাসের গতিতে গোটা ইরানে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনতা রা স্তা য় নেমে ইমামের মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দেয়।

শাহের বাহিনী অস্ত্র নিয়ে বিক্ষো ভকা রীদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে।

রক্তা ক্ত হয় রাজপথ। রাজধানী তেহরান ও ধর্মীয় কোমসহ সারা দেশে শহীদ হয় কয়েক হাজার ন্যায় কামী মানুষ।

আন্দোলন বাহ্যত স্তিমিত হয়ে আসে।

ইমাম খোমে নীকে কিছুদিন সেনা ঘাঁটিতে এবং প্রায় ১০ মাসের মতো একটি বাড়ীতে বিশেষ নজর দারিতে রাখা হয়।

পরি স্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসায় শাসক গোষ্ঠী ধরেই নিয়ে ছিল যে,

ইমাম খোমেনী (রহ.) তার আন্দো লনের সাহস হারিয়ে ফেলেছেন এবং জনতাও আর নতুন করে আন্দোলন গড়ে তোলার দুঃসাহস দেখাবে না।

এ কারণে ১৯৬৪ সালের এপ্রিল মাসে ইমাম খোমেনীকে মুক্তি দেয়া হয়।

কিন্তু ইমাম খোমেনী (রহ.) মুক্তি পাবার পর কয়েক দিন পরই শাহ সরকারের বিরুদ্ধে এক জ্বালাময়ী ভাষণ দেন।

ইরানের ইসলামি বিপ্লব প্রথম পর্ব।

তিনি বিজাতীয়দের উপর শাহের নির্ভরতার কড়া সমালোচনা করেন এবং জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তুলার আহ্বান জানান।

এর কিছু দিন না যেতেই আবারও শোকের মাস মহররম এসে উপস্থিত হয়।

ঐ বছরের শোকানুষ্ঠানগুলোও শাহের অন্যায়-অপকর্ম ফাঁস করার অনুষ্ঠানে রূপ নেয়।

এসব শোকানুষ্ঠানে আগের বছরের একই মাসে শাহের বাহিনীর হামলায় যারা শহীদ হয়েছিল তাদেরকেও স্মরণ করা হয় গভীর শ্রদ্ধাভরে।

১৯৬৪ সালের অক্টোবর মাসে শাহ তার অনুগত সংসদকে দিয়ে ক্যাপিটিউলেশন বিল পাস করিয়ে নেয়।

এই বিলটি ইরানের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের জন্য অপমানজনক ছিল। এই আইনের কারণে ইরানে কোন মার্কিন নাগরিকের বিচার করা যেত না।

এক কথায় ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরকে বিচারের উর্ধ্বে রাখা হয়েছিল।

ইরানের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব বিরোধী এই ক্যাপিটিউলেশন আইনের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

ইমাম খোমেনী এই আইনের ধ্বংসাত্বক প্রভাব সবার সামনে তুলে ধরেন।

মহান এই নেতা শাহের অন্যায় ও দুর্নীতি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জনগণের দুঃখ-কষ্টের প্রধান হোতা হিসেবে ঘোষণা করেন।

তিনি বলেছিলেন, বর্তমানে আমাদের দুঃখ-কষ্টের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলই দায়ী।

কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের পরামর্শে ইরানের স্বৈরাচারী সরকার, ইরানিদের জীবন দুর্বিসহ করে তুলেছিল।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের দিনগুলি

এ অবস্থায় ইমাম খোমেনীর যুক্তিপূর্ণ ওই ভাষণ শাহের সরকারকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তোলে।

তারা এই ভীতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ইমাম খোমেনীকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইমামকে ১৯৬৪ সালের ৪ নভেম্বর তুরস্কে এবং এর ১১ মাস পর ইরাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়।

আর এভাবেই ইমামের ১৪ বছরব্যাপী নির্বাসিত জীবনের সূচনা হয়।

ইমাম যখন নির্বাসনে তখনও ইরানে কম-বেশি আন্দোলন অব্যাহত ছিল।

শাহের বাহিনীর দমন-পীড়নের কারণে বাহ্যত মাঠে-ময়দানের আন্দোলন স্তিমিত থাকলেও ভেতরে ভেতরে ন্যায়কামীরা তাদের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখে।

এর প্রমাণ পাওয়া যায়, ১৯৬৫ সালের ২০ শে জানুয়ারি।

এদিন ইসলামী মুতালেফে পার্টির কয়েক জন সদস্য শাহের অনুগত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী মানসুরকে হত্যা করে।

পরে অবশ্য শাহের বাহিনী এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদেরকে ফায়ারিং স্কোয়াডে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

(সংগৃহীত)

ইরানের ইসলামি বিপ্লব, ইসলামী বিপ্লব,দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ – পর্ব ১ম,ইরান বিপ্লব,যত বিপ্লব,

রুশ বিপ্লব,ইরানের ঘটনা, শিল্প বিপ্লব,ইরানের রহস্য,ইসলামের ইতিহাস, সংগঠিত বিপ্লব,দেশে দেশে বিপ্লব,ইসলাম,ইরানের অজানা তথ্য,ইরানের সেনাবাহিনী,ইসলামের ইতিহাস : নববী যুগ থেকে বর্তমান,ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র,কাজী আশরাফুল ইসলাম,আমিনুল ইসলাম শান্ত,ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button